নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে পেলেট গান বা ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের বিরুদ্ধে। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পোস্ট-ইভেন্ট অ্যাসেসমেন্ট শুরু করেছে কেন্দ্রীয় রিজ়ার্ভ পুলিশ বাহিনী। সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়েছেন। তাই প্রতিটি বড় অভিযানের পর যে নিয়মমাফিক মূল্যায়ন করা হয়, এ ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সিআরপিএফ সূত্রে খবর, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের পর এই ধরনের মূল্যায়ন বাহিনীর এসওপির (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র) অংশ। সেই প্রক্রিয়ায় গোটা অভিযানের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে কোন পরিস্থিতিতে পেলেট গান বা ছররা গুলি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারিত নিয়ম মেনেই হয়েছিল কি না এবং ঘটনাক্রম কী ভাবে এগিয়েছিল, তা বিশদে পরীক্ষা করা হবে।
এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, তদন্ত শেষ হলে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে সদর দফতরে জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে, বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত কৌশল নির্ধারিত প্রোটোকলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল কি না। অন্য এক আধিকারিকের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও পেশাদার মূল্যায়ন। প্রাথমিক তথ্য হাতে এলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে না।

গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় রাজধানীর কনট প্লেস এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ এবং ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সেই সময় পেলেট গান ব্যবহারের জেরে বহু আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। যদিও বাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ-সহ প্রচলিত বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
সিআরপিএফ সূত্রের আরও দাবি, ওই দিনের সংঘর্ষে কনট প্লেস এলাকায় মোতায়েন থাকা ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের অন্তত ৪৭ জন জওয়ান আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের আঘাত গুরুতর বলেও জানানো হয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং বাহিনীর পদক্ষেপ— দু’দিকই খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পরই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সিআরপিএফ।