অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: পুজোর ছবি নিয়ে দেব-কুণালের বাকবিতণ্ডার পর এবার দেবকে খোঁচা ব্রাত্য বসুর। পুজোর ছবি রঘু ডাকাত মুক্তির আগে থেকেই বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং দেব। ‘রঘু ডাকাত’ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। তার পোস্টে পাল্টা জবাব দিয়েছেন দেব ও রানা সরকার। এবার কুণাল ঘোষের পর দেবকে একহাত নিলেন ব্রাত্য বসু।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ব্রাত্য বসু বলেন, “দেব ও কুণালের মধ্যে ঠিক কী হয়েছে আমি জানি না। তবে এই পুজোয় চার-চারটে বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে। সব ছবি দর্শক দেখছেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে আমি যা বলতে পারি তা হল বাংলা ছবিতে কেউ সুপারস্টার নন। “দেব ভাল অভিনেতা। খুব ভাল অভিনেতা। দেব স্টার হতে পারেন। কিন্তু সুপারস্টার হতে পারেন না। বিষয়টিই হাস্যকর। যিনি সুপারস্টার হবেন তিনি কখনও কারও অধীনে রাজনীতি করবেন না। তিনি নিজে একটি দল তৈরি করবেন। তাই রাজনৈতিক দিক থেকে বলতে গেলে একমাত্র সুপারস্টার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর স্টার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি নিজের উপমা টেনে তিনি বলেন যে, “যেমন আমি নিজেই আমি থিয়েটার করি, অভিনয়ও করি আবার রাজনীতিতেও রয়েছি। তাই নিজেকে যদি আমি সুপারস্টার বলি, তাহলে এর থেকে হাস্যকর কিছু হয় না।”শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আরও বলেন, “কুণাল সিনেমা নিয়ে তার মতামত দিয়েছেন। একটা জায়গায় কুণালের বক্তব্য ঠিক। বাংলা সিনেমা করতে গিয়ে বিজেপি-ঘনিষ্ঠদের নেওয়া হলে, তাতে কুণালের আপত্তি থাকতেই পারে। কারণ ও রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট অবস্থান নেয়। তবে এসব আসলে দলীয় অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সিনেমাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের তর্ক-বিতর্ক না হলেই ভাল।” পুজোর কয়েকদিন আগে প্রেক্ষাগৃহে পুজো রিলিজের স্লট পাওয়া নিয়ে একটা পোস্ট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। পোস্টে বলেছিলেন সব ছবিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হোক। চারটি সিনেমাই যেন সমান সংখ্যক স্লট পায়। স্লট পাওয়া নিয়ে যেন কোনও এক তারকার দিকে পাল্লা ভারী না হয়। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে বেশি শো পাওয়া। এক্ষেত্রে দেবকে মাফিয়া বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “ছবি রিলিজের আগে উদারতা দেখালেই তো ভাল হয়। ছবি রিলিজের পর আমি কত উদার, সেটা দেখানো, সময় সময় বেছে বেছে উদার হওয়া সমস্যা। যারা চেষ্টা করছে, তাদের সকলকে সমানভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে দেওয়াই কাম্য। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির ভিতরেই যদি রাজনীতি হয়, সেটা অনুচিত।” একপাশে দেবের ‘রঘু ডাকাত’, অন্যদিকে ‘রক্তবীজ-২’। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। রক্তবীজ ২ নিয়ে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে কুণাল ঘোষকে। এদিকে, দেবের হয়ে লড়ে গিয়েছেন প্রযোজক রানা সরকার। কুণাল ঘোষের পোস্টের পালটা রানা সরকার সমাজ মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন। সেখান থেকেই রাজনীতির ময়দানেও ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক। রানা সরকার বলেন ‘কুণাল ঘোষ কেন দেব-বিরোধী? কিংবা বাংলা সিনেমা নিয়ে এত কথা কেন বলেন তিনি? যদিও দেবের বক্তব্য ছিল, “কাউকে ছোট করে বড় হতে পারব না। এই প্রচেষ্টা কোনওদিনও করিনি। বন্ধু হতে যোগ্যতা লাগে, শত্রু হতেও যোগ্যতা লাগে। আমার শত্রু হতেও যোগ্যতা লাগবে। আমার মনে হয়, এখনও কেউ সেই জায়গায় পৌঁছায়নি।” এই বিতর্কের মাঝেই এবার ঘৃতাহুতি দিয়েছেন ব্রাত্য। চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়ে এই বিতর্ক সরাসরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই টেনে এনেছেন।