রিয়া দাস, সাংবাদিক : ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন আপ উন্মাদনার নাম। চার বছর অন্তর যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো এক ছাদের নীচে জড়ো হয় তখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেই দেখা যায় আবেগ। রাস্তাঘাট থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, চায়ের আড্ডা থেকে বিশাল স্টেডিয়াম সর্বত্র শুরু হয় বিশ্বকাপের আলোচনা। প্রিয় দলের জয় পরাজয় নিয়ে হাসি, কান্না, উল্লাস ও হতাশায় তৈরি হয় অসংখ্য স্মৃতি। আর সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কিছু দল রয়েছে যাদের দিকে সমর্থকদের নজর সবসময় একটু বেশি থাকে। তাদের মধ্যে একটি দল ইংল্যান্ড। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ইংল্যান্ড এমন একটি দল যাদের বলা হয় হোম ওফ ফুটবল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় একবারই ফিফা বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে এই দল। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানিকে হারিয়ে। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর কেটে গেছে প্রায় ৬০ বছর। একের পর এক প্রজন্ম এসেছে। অসংখ্য তারকা ফুটবলার উঠে এসেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এখনও অধরা। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা এবারও আকাশছোঁয়া।

নতুন কোচ থোমাস টুখেলের হাত ধরে ইংল্যান্ড এবার এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। জার্মান এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি শুধুমাত্র নামের উপর নির্ভর করবেন না বরং বর্তমান ফর্ম ও দলের প্রতি অবদানকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। আর সেই প্রতিফলন দেখা গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে।। ফিল ফোডেন, কোল পামার, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নাল্ড, হ্যারি ম্যাগুয়ের, লুক শ, মর্গ্যান গিবস-হোয়াইট এবং অ্যাডাম হোয়ার্টনের মতো পরিচিত নাম বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নাল্ডের বাদ পড়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ আক্রমণ গঠনে তাঁর দক্ষতা বিশ্ব ফুটবলে বহুল প্রশংসিত। তবে টুখেল বুঝিয়ে দিয়েছেন, অতীতের সাফল্য নয় বর্তমান সময়ে কে দলের জন্য বেশি কার্যকর সেটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গোলরক্ষকের দিক থেকে ইংল্যান্ড যথেষ্ট শক্তিশালী। জর্ডন পিকফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার। বড় ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসা। ডিন হেন্ডারসন এবং জেমস ট্র্যাফোর্ডও বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। ফলে গোলপোস্ট নিয়ে ইংল্যান্ডকে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না।
জন স্টোনস পুরো মরশুমে চোটের সমস্যায় ভুগলেও তাঁর অভিজ্ঞতার কারণেই দলে জায়গা পেয়েছেন। মার্ক গুহেই, এজরি কোনসা, ড্যান বার্ন, রিস জেমস, জেড স্পেন্স ও টিনো লিভ্রামেন্টোর মতো ফুটবলাররা গত এক বছরে নিজেদের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে লিভ্রামেন্টো এবং স্পেন্সকে সুযোগ দেওয়া টুখেলের সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। তরুণ এই ডিফেন্ডারদের গতি এবং শারীরিক সক্ষমতা আধুনিক ফুটবলে ইংল্যান্ডকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। মিডফিল্ডই সম্ভবত ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী বিভাগ। জুড বেলিংহ্যাম বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং প্রয়োজনে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তোলে। তাঁর পাশে রয়েছেন ডেক্লান রাইস, যিনি দলের ভারসাম্য রক্ষার মূল স্তম্ভ। সবক্ষেত্রেই রাইস অসাধারণ। কোবি মাইনু, এবেরেচি এজে, মর্গ্যান রজার্স এবং অভিজ্ঞ জর্জন হেন্ডারসন মিলে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ইংল্য়ান্ডের শক্তি নিয়ে খুব কম দলেরই তুলনা চলে। অধিনায়ক হ্যারি কেন এখনও বিশ্বের অন্যতম সফল স্ট্রাইকার। ক্লাব ও দেশের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন তিনি। তাঁর পাশে রয়েছেন ওলি ওয়াটকিন্স। যিনি দুর্দান্ত ফর্মে ফিরে এসে আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ইভান টনি, উইংয়ে বুকায়ো সাকা, মার্কাস ব়্যাশফোর্ড, অ্যান্থনি গর্ডন এবং ননি মাদুয়েকের মতো ফুটবলাররা রয়েছেন।
তবে শুধু দল শক্তিশালী হলেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও দলকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামাও চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে ইংল্যান্ডকে। এখন প্রশ্ন একটাই ২০২৬ সালে কি শেষ হবে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা। থোমাস টুখেলের নেতৃত্ব ইংল্যান্ডকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। হয়তো ১৯৬৬ সালের সেই সোনালি স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। হয়তো এই প্রজন্মই ইতিহাস বদলাবে। আপনারা কী মনে করেন? ইংল্যান্ড পারবে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ নিজেদের নামে করতে? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত।