বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী আবহে এক অভিনব প্রচারের মাধ্যমে নজর কাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী লাভলী মৈত্র। দ্বিতীয়বারের জন্য ভোটের লড়াইয়ে নেমে তিনি এবার ভিন্ন পথে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলেন। সকাল সকাল সাইকেলে চড়ে এলাকায় ঘুরে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন তিনি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রচার কর্মসূচি চালান লাভলী মৈত্র। বিশেষ করে তিনি ‘দিদির সবুজ সাথী’ প্রকল্পের সাইকেল ব্যবহার করে প্রচারে নামেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব বার্তা দিয়েছেন, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে নিজেকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
প্রচারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরাও। সাইকেলে চড়ে রাস্তায় বেরিয়ে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা-অভিযোগ শোনেন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের আশ্বাস দেন। এই ধরনের সরাসরি জনসংযোগমূলক প্রচার স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রচারের ফাঁকেই লাভলী মৈত্র বিশেষভাবে জোর দেন নারী সুরক্ষা, নারীর সম্মান এবং নারীর স্বাধীনতার উপর। তিনি বলেন, বাংলার নারীরা সবসময় রাজ্যের নেতৃত্বের পাশে থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও।
তিনি আরও বলেন, “ভূমি কন্যা বিচার করে ভোট হয় না, কাজের নিরিখেই মানুষ রায় দেয়। গত পাঁচ বছরে আমি ২৪ ঘণ্টা মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। সেই কাজের ভিত্তিতেই মানুষ আমাকে আবার বিপুল ভোটে আশীর্বাদ করবেন বলে আমি আশাবাদী।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ব্যতিক্রমী প্রচার কৌশল ভোটারদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবমিলিয়ে, সাইকেলে চড়ে এই অভিনব প্রচারের মাধ্যমে লাভলী মৈত্র যে সোনারপুর দক্ষিণে নির্বাচনী লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলেছেন, তা বলাই যায়। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচারের প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।