সুচারু মিত্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্য ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট। আর সেই ভোটকে সামনে রেখে এবার শুরু হয়ে গেল রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতি। অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিধানসভা কেন্দ্র গুলোকে প্রথমে নজরে রেখে শুরু হল সাংগঠনিক প্রস্তুতি। আর এবার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক হিসেবে কলকাতায় এসেছেন ভূপেন্দ্র যাদব, আর অন্য দিকে সহ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন বিপ্লব দেব। আর এই দুই কেন্দ্রীয় নেতাই এখন বঙ্গ বিজেপিকে লাইন তৈরি করে দেবেন।
কোন পথে চললে বিজেপি লাভবান হবে?
কী ভাবে ভোটে অক্সিজেন পাবে বিজেপি?

তার সবকিছুই বাতলে দিলেন দুই কেন্দ্রীয় নেতা। আর তাই সল্টলেক কার্যালয়ে প্রায় চার দফায় বৈঠক। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন ভূপেন্দ্র যাদব। শমীকের পরেই কেন্দ্রীয় নেতা এই বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও। শমীক এবং শুভেন্দু এই দুই লাইন যে – রাজ্য বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ভূপেন্দ্র যাদব। এই দুই রাজ্য নেতাকে মাথা করেই নির্বাচনের পরিকল্পনা শুরু করল রাজ্য বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঝাড়াই বাছাই করে দেখেছে ৫১ টা এমন বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে বিজেপির সংগঠনের লেশ মাত্র নেই। আর সেই জায়গাটাতেই এবার বেশি করে নজর দিতে চায় বিজেপি।
যে সমস্ত জায়গা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, বিজেপির একেবারে সংগঠন নেই, সেই সমস্ত জায়গাতেই রাজনৈতিক সভা, সাংগঠনিক সভা এমনকি ডোর টু ডোর ক্যাম্পেনে জোর দেবে রাজ্য বিজেপি। অন্তত ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব এই গাইড লাইন তৈরি করে দিলেন বিজেপিকে। বৃহস্পতিবার সল্টলেক অফিসে সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে শুরু হয় বৈঠক।এরপর চার দফায় চলে এই বৈঠক। যেখানে আগামীতে কী করতে হবে বিজেপিকে তার রূপরেখা তৈরি করে দিলেন তারা। সূত্রের খবর, একদিকে এসআইআর ইস্যু ভোটের প্রচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে, এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির দুই কেন্দ্রীয় নেতা। তার পাশাপাশি দুর্নীতি তো আছেই। এছাড়াও আরও একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনের জোয়ার আনতে হবে। পথে বেরোতে হবে বিজেপিকে বেশি করে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে।

শুধুমাত্র রাজ্য নেতাই নয় জেলায় থাকা বা ব্লক স্তরে থাকা বা বুথ স্তরে থাকা নেতারাও কর্মসূচির কল দিতে পারবেন। আগামী ৯ মাসের মধ্যে ছোট বড় মিলিয়ে এক হাজার সভা করতে হবে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বকে। গোটা রাজ্যজুড়ে এক হাজার সভা করে সংগঠনের একটা বিস্তার চাইছে দুই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক।
গত বিধানসভা নির্বাচনে কৈলাস বিজয়বর্গীয় পারেননি, তাহলে কি এবার বিপ্লব দেব এবং ভূপেন্দ্র যাদবের তৈরি করে দেওয়া স্ট্র্যাটেজিতে এগোতে পারবে বিজেপি?
২০২৬-এ বাজিমাত করতে পারবে গেরুয়া শিবির?…. বলে দেবে সময়।