সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: পাকিস্তানে জাফর এক্সপ্রেসে ফের হামলা চালালেন বালোচ বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার সকালে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে রেললাইনে বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসের বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। এখনও অবধি যা জানা যাচ্ছে এই দুর্ঘটনায় সাত জন জখম হয়েছেন।

মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধান, ফের একবার হামলার শিকার হল জাফর এক্সপ্রেস। ভয়াবহ বিস্ফোরণে লাইনচ্যুত হল ট্রেনের একাধিক কামরা। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে সিন্ধ-বালোচিস্তান সীমান্তবর্তী সুলতানকোট অঞ্চলে। দুর্ঘটনার সময় ৪০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল ট্রেনটিতে। ফলে বিরাট ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিকারপুরের সুলতান কোট গ্রামের কাছে রেললাইনে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। রাওয়ালপিন্ডি থেকে কোয়েটাগামী জাফর এক্সপ্রেসটি পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, ফলস্বরূপ, ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। বিস্ফোরণে সাত যাত্রী জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ে আধিকারিক জানিয়েছেন, সুক্কুর থেকে উদ্ধারকারী দল পৌঁছচ্ছে। রেলওয়ে ট্র্যাকের মেরমতি করা হচ্ছে। মেরামত করতে কয়েকঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর ট্রেনের গতি অনেকটা ধীরে চলছে। এই লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রবল যাত্রী ভোগান্তি হতে দেখা যায়।

আইইডি বিস্ফোরণের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা শুরুতে স্পষ্ট ছিলনা। কারণ তখন কোনও সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে যে এলাকায় এই হামলা চলেছে সেখানে বালোচ বিদ্রোহীদের ঘাঁটি। ফলে অনুমান করা হচ্ছিল হামলার নেপথ্যে রয়েছে বালোচরাই। এদিকে রিপোর্ট বলছে, এই নিয়ে গত দুই মাসে ৬ বার পাকিস্তানের যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটল। ঘটনার বেশ খানিকক্ষণ বাদে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং বালোচ রিপাবলিক গার্ডস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ট্রেনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভ্রমণ করছিলেন বলেই সেটিকে নিশানা করা হয়েছিল। বালোচ রিপাবলিকান গার্ডস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ট্রেনটিতে এমন এক সময়ে হামলা চালানো হয় যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে বেশ কয়েকজন সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বিআরজি এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং ঘোষণা করে যে বালোচিস্তানের স্বাধীনতা না আসা পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”