মাম্পি রায়, সাংবাদিক : হরমুজ প্রণালী ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে জরুরি বৈঠক ডাকা হতে পারে United Nations Security Council-এর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, মঙ্গলবারই বৈঠক হতে পারে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একটি খসড়া প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই এই তৎপরতা।

বাহরিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ভাবে এই খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। ইতিমধ্যেই ১২৯টিরও বেশি দেশ এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও সহ-সমর্থকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১২। সম্প্রতি সোমালিয়া এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রও এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, বর্তমানে এই দুই দেশই নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য।
খসড়া প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জলপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখা। পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে। বাহরিন ও আমেরিকার পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার, আরব, কুয়েত এই প্রস্তাবের প্রধান সমর্থক।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সেই আবহেই বাহরিন জরুরি বৈঠকের আর্জি জানিয়েছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজর এখন নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকেই।
গত ৬ মে প্রথম এই খসড়া প্রস্তাব তোলে আমেরিকা। মার্কো রুবিও (Marco Rubio) অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করে “বিশ্ব অর্থনীতিকে বন্দি” করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে মাইন পাতা এবং টোল আদায়ের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করে তুলছে তেহরান। খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে হামলা বন্ধ করা, সমুদ্রে পাতা মাইনের অবস্থান জানানো এবং তা অপসারণে সহযোগিতার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে ইরান এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। রাষ্ট্রসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশনের দাবি, ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’-র আড়ালে আমেরিকা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের একমাত্র সমাধান যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের উপর থেকে সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর কথায়, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অনুরোধে কয়েকদিনের জন্য হামলার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।