মাম্পি রায়, সাংবাদিকঃ আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ জানান দিচ্ছে, আর কয়েকটা দিন বাকি। তারপরই দুর্গোৎসবে মেতে উঠবে আপামর বাংলা। মাঠে মাঠে কাশফুল, শিউলি ফুলের গন্ধ, চারদিকে মণ্ডপ তৈরির তোরজোর দেখে আট থেকে আশি সকলের মধ্যেই একটা মন ভালো করা ভাব। আবারও উৎসবের আনন্দে নিজেদের ভাসিয়ে দেওয়ার দিন আসছে। কিন্তু এ তো গেল আমার আপনার মতো মানুষের কথা। কিন্তু যাদের দিন রাত কাটে রাস্তার মধ্যেই। দুবেলা দুমুঠো খাবার জন্যও অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, এমন পথশিশুদের কি দুর্গাপুজো থাকতে নেই?

উত্তরটা হল হ্যাঁ। তাদেরও অবশ্যই দুর্গাপুজো আছে। তাদেরই দায়িত্ব নিয়েছে নীব। মহালয়ার প্রাক্কালে এক অনন্য দুর্গাপুজা উদ্যাপনের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। ‘নীব’ হল এক বিশেষ সন্ধ্যাকালীন বিদ্যালয়। যেখানে পথশিশু ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পাঠ পড়ানো হয়। হাওড়ার ‘শ্রী জৈন বিদ্যালয়’-এর সহযোগিতায় নীব এক বিশেষ দুর্গোৎসব উদযাপন করল। নীবের মূল উদ্দেশ্য হল ওই পথশিশুদের মধ্যে নাগরিক চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা। এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে নাচ, গান, জিমন্যাস্টিক, ক্যারাটে সহ বিভিন্নভাবে পারফর্ম করে শিশুরা। যা নজর কেড়েছে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি এবং দর্শকদের।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সৌমিত্র পাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও শ্রী জৈন বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সুধীরকুমার মেহতা। সুধীর কুমার মেহতা বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণ বা পিছিয়ে পড়া সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের নয়, সমাজেরও। যদি আরও কিছু সংগঠন ‘নীব’-এর মতো উদ্যোগ নেয় তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে সমাজ।” দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকেও সমাজের এধরণের কাজে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। এমন একটা উদ্যোগকে সফল করার জন্য শশী কঙ্করিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ‘ছত্রছায়া’ দল। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে এই শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। নানানরকম সহযোগিতার অঙ্গীকারও করেন তাঁরা। এই বিশেষ দুর্গোৎসব শুধুমাত্র উৎসবের আনন্দ নয়, সমাজকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার বার্তাও বহন করল।